স্বজনপ্রীতি রোধে আইন

Post Iamge

Advertise

মন্ত্রী-আমলাদের স্বজনপ্রীতি বহুল আলোচিত একটি বিষয়। এই স্বজনপ্রীতি দুর্নীতিও বটে।

আশার কথা হচ্ছে, সরকারি পদে থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার নিকটাত্মীয়-স্বজনকে যাতে কোনো ধরনের সুবিধা দিতে না পারেন, সেজন্য একটি নতুন আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে আইন কমিশন।

‘স্বার্থ সংঘাত প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১৯’ শিরোনামের এই খসড়াটি ইতিমধ্যেই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে কমিশন। স্মর্তব্য, এ সংক্রান্ত একটি আইনের প্রস্তাব আইন কমিশনে পাঠিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করেই খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
খসড়া আইনটিতে বলা হয়েছে, আইন লঙ্ঘনকারীকে সর্বোচ্চ ৭ বছর সশ্রম এবং সর্বনিু ১ বছর কারাদণ্ড দেয়া যাবে। খসড়া আইন অনুযায়ী, অবসরে যাওয়ার দু’বছরের মধ্যে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিরত অবস্থায় যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারবেন না। এ ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ছেলেমেয়ে, স্ত্রী কিংবা আত্মীয়স্বজন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো দরপত্র কিংবা নিয়োগ সংক্রান্ত কাজে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি কোনো সচিবের মাধ্যমে অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিতে তার পরিবারের সদস্যরা পরিচালক পদে থাকতে পারবেন না।

বলাবাহুল্য, প্রস্তাবিত খসড়াটি সংসদে আইন আকারে পাস হলে অনাকাক্সিক্ষত অনেক অপকর্ম থেকে জাতি রেহাই পাবে। স্বজনপ্রীতি আমাদের দেশে এক বড় নেতিবাচক সামাজিক উপসর্গ। নিকটাত্মীয়, বিশেষত পরিবারের সদস্যদের নানা সুবিধা পাইয়ে দেয়া দেশে এক নিয়মিত ঘটনাই বলা চলে। এ সুবিধা পাইয়ে দেয়ার কাজটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুর্নীতির মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। ফলে সমাজে দুর্নীতির প্রসার ঘটে। প্রস্তাবিত আইনে অবসর গ্রহণের দুই বছরের মাথায় কোনো কর্মকর্তা চাকরিরত অবস্থায় যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেসব প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না মর্মে যে বিধান রাখা হয়েছে সেটিও সুবিবেচনাপ্রসূত বলা যায়। কারণ দেখা যায়, চাকরিরত অবস্থায় কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা পাইয়ে দিয়ে অবসর গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সেই প্রতিষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন। এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, ওই কর্তাব্যক্তিটি অবসর গ্রহণের পর কী করবেন তা আগেই নির্ধারণ করে কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে অন্যায় সুবিধা দিয়েছেন।

আইন কমিশন কর্তৃক তৈরি খসড়া আইনটি কেন অনেক আগেই প্রণয়ন করা হয়নি, সেটাই বরং প্রশ্ন। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সরকার দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিতামূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী আইন তৈরি করলেও আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি দায়িত্ব পালনকালে উদ্ভূত স্বার্থ সংঘাত নিরসন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো সুস্পষ্ট আইন প্রণীত হয়নি। এই প্রথমবারের মতো একটি আইন তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। আইনটি স্বজনপ্রীতি রোধে তো বটেই, অনৈতিক প্রবণতা থেকেও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরত রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। খসড়া আইনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জাতীয় সংসদে নির্বিঘেœ পাস হবে- এটাই প্রত্যাশা।

সম্পর্কিত পোস্ট

Add Comment

অন্যান্য সংবাদ

নিউজলেটার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আপনার ইনবক্সে সেরা খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন । আমরা আপনাকে স্প্যাম করব না এবং আমরা আপনার গোপনীয়তাকে সম্মান করি।