বন্ড সুবিধার অপব্যবহার

Post Iamge

Advertise

বন্ড সুবিধায় আমদানি করা বিভিন্ন শ্রেণীর কাপড় ইসলামপুরসহ রাজধানীর কয়েকটি বাজারে ঢুকে পড়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এর ফলে একদিকে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে দেশের সম্ভাবনাময় বস্ত্র খাত, অন্যদিকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

উল্লেখ্য, শতভাগ রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে থাকে তাকে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা বলে। কাজেই শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা কাপড় কেবল শতভাগ রফতানিমুখী গার্মেন্ট শিল্পে ব্যবহার হওয়ার কথা। খোলাবাজারে বিক্রি হওয়ার কথা নয়।

তাহলে কিভাবে এমনটি ঘটছে? বোঝাই যাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে একটি চোরাই কারবার চলছে। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত শীর্ষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গার্মেন্ট মালিক নামধারী দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র বন্ড সুবিধায় কাপড় এনে কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও কয়েকটি শক্তিশালী চক্র, যারা অন্যের বন্ড লাইসেন্সে মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে এ চোরাকারবার চালিয়ে যাচ্ছে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধু বন্ডের কাপড় চোরাচালান করেই শূন্য থেকে শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছে অনেকে।

তাই বোঝাই যাচ্ছে, রাতারাতি ধনী হওয়ার আশায় অনেকেই এ অবৈধ পথ অনুসরণ করে থাকে। দেশীয় শিল্প রক্ষার স্বার্থে সরকারের উচিত অবিলম্বে এদিকে দৃষ্টি দেয়া। এ অবৈধ কারবার বন্ধ করা।

জানা যায়, শুল্ক ও করমুক্ত এবং মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে আমদানিকৃত সুতা-কাপড়সহ বিভিন্ন পোশাক পণ্য অবাধে স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে। শুধু কাপড় নয়, পিপি দানা ও বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল থেকে শুরু করে সব ধরনের বন্ড সুবিধার পণ্যই চলে যাচ্ছে কালোবাজারে। স্বভাবতই এর প্রভাব পড়েছে দেশের রফতানিমুখী স্পিনিং ও উইভিং মিলগুলোতেও।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটা মূলত দেশীয় শিল্পকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র। বস্তুত দেশের প্রধান রফতানি খাতটিকে ধ্বংস করার জন্য দেশি-বিদেশি চক্র দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। এসব চক্রকে চিহ্নিত করা জরুরি। সেই সঙ্গে কারা কিভাবে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে বন্ড সুবিধায় কাপড়, সুতা ইত্যাদি আনতে পারছে, কারা তাদের সহযোগিতা করছে- এসব তদন্ত করে বের করে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

 অনুসন্ধানেও এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আমাদের সূত্র বলছে, বন্ডের কাপড় চট্টগ্রাম কাস্টমস থেকে খালাস হয়ে ঢাকার আশপাশে এসে নামে। রাতের অন্ধকারে নারায়ণগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় গাড়ি আনলোড হয়। এজন্য চট্টগ্রাম রোডে অনেক বাড়িতে অস্থায়ী গোডাউনও গড়ে উঠেছে।

এসব গোপন গোডাউন থেকে সুবিধামতো সময়ে কাপড় হাতবদল হয়। একপর্যায়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব চলে যায় ইসলামপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কালোবাজারিদের হাতে। আরও জানা গেছে, বন্ড কাপড় চোরাই বাজারে বিক্রির পাশাপাশি কাস্টম হাউসের নিলাম কাগজ দেখিয়েও বড় ধরনের জালিয়াতি হয়।

এর সঙ্গে কাস্টমসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকায় কালোবাজারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। আমরা মনে করি, দেশীয় বস্ত্র শিল্প রক্ষায় এই গোটা চক্র ও তাদের চোরাই কারবার ভেঙে দিতে হবে। যারাই এর সঙ্গে জড়িত তাদের সবাইকে আনতে হবে আইনের আওতায়।

সম্পর্কিত পোস্ট

Add Comment

অন্যান্য সংবাদ