প্রস্তাবিত শিল্পঋণ তহবিল: অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে

Post Iamge

Advertise

সরকার অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েও সিঙ্গেল ডিজিট তথা ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করাতে পারেনি। এ প্রেক্ষাপটে শিল্প খাতের ঋণের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর প্রতি কার্যকর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে, যাতে করে তারা সরকার নির্দেশিত ও তাদের প্রতিশ্রুত সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার কার্যকর করতে বাধ্য হয়।

এ দুটি উদ্যোগ যথাযথভাবে কার্যকর করা গেলে শিল্পঋণ প্রাপ্তি সহজ হওয়া এবং স্বল্প সুদে তা পাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশে শিল্পায়ন ঘটবে তথা সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা যায়।

জানা যায়, বিশেষ তহবিলটি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শিল্পঋণের সুদহার কমানোর উদ্দেশ্যে। এর মাধ্যমে শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের মেয়াদি ঋণ ও মূলধন জোগানো হবে স্বল্প সুদে; বাস্তবায়ন করা হবে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার। ভালো উদ্যোক্তাদের দেয়া হবে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ।

আমরা আশা করব, বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও কর্মসংস্থানের মন্থরগতি, উচ্চমাত্রার বেকারত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে শিল্পঋণের জন্য সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার নিশ্চিত করা হলেও অন্যান্য ঋণের সুদহার হবে বাজারভিত্তিক।

শিল্পঋণের বিশেষ তহবিলে অর্থের জোগান দিতে সরকার বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নেবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকেও অর্থের জোগান দেয়া হবে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে তা প্রশংসার দাবিদার।

শিল্পঋণের বিশেষ তহবিলটিতে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে জোগানো অর্থ থেকে ভালো উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি মূলধন সরবরাহ করা হবে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখা আমাদের শিল্পোদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প সুদে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার দাবি করে আসছিলেন। বিশেষ তহবিল গঠনের মধ্য দিয়ে তাদের সে দাবির কিছুটা পূরণ হলে তা যে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হবে তাতে সন্দেহ নেই।

শিল্প খাতে বিশেষ সুবিধার জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সীমিত পর্যায়ের একটি তহবিল আগে থেকেই আছে। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে একে আরও বড় ও কার্যকর করে কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি। শিল্পঋণের সুদহার কমিয়ে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হলে দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে।

বস্তুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতির চাকা গতিশীল করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ সব দেশই নিয়ে থাকে। বর্তমানে যখন আমাদের লক্ষ্য পর্যায়ক্রমে উন্নয়নশীল ও উন্নত অর্থনীতি হওয়া, তখন এ ধরনের বিশেষ তহবিল ও উদ্যোগের বিকল্পও নেই।

তবে মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশে যে কোনো সুযোগ অনিয়ম-দুর্নীতিবাজরাই বেশি পেয়ে থাকে। শিল্পঋণের প্রস্তাবিত বিশেষ তহবিল যেন সেভাবে ঋণখেলাপি ও জালিয়াতদের পেটে চলে না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে; অন্যথায় সুযোগসন্ধানীরা কিন্তু বসে থাকবে না।

সম্পর্কিত পোস্ট

Add Comment

অন্যান্য সংবাদ