পায়রা সমুদ্রবন্দর: সরাসরি পণ্য খালাস শুরু ২০২৫ সালে

Post Iamge

Advertise

রাবনাবাদ চ্যানেলের চারিপাড়ায় নির্মিতব্য টার্মিনালে ২০২৫ সালের মধ্যে পায়রা পোর্ট সরাসরি পণ্য খালাসের কাজ শুরু করবে।

এরই মধ্যে তিনটি পরামর্শক কোম্পানি মাস্টারপ্ল্যান অনুসারে মূল বন্দরের কাজ শুরু করেছে। ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের জন্য ওয়াটার এবং ল্যান্ডে মোট ২২০ একর জমি বেলজিয়ামের জান-দে-নুল কোম্পানিকে বুঝিয়ে দেয়ার কাজ চলছে।

 

অপরদিকে তিনটি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ সরকারি ডিপিপি অনুসারে ডিজাইন, মূল্যায়নের কাজ চলমান রয়েছে। শনিবার পায়রা বন্দর মিলনায়তনে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর মো. জাহাঙ্গীর আলম এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সেপ্টেম্বর নাগাদ প্রথম টার্মিনাল নির্মাণের টেন্ডার ডাকা হবে। ভূমি অধিগ্রহণের বাকি কাজ যৌথ সার্ভের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া নিশানবাড়িয়ায় একটি কোল টার্মিনালসহ আরও একটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।

এজন্য ৪৩৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর নাগাদ কোল টার্মিনাল নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে। এছাড়াও বহুমুখী কাজে ব্যবহারের জন্য এক দশমিক দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি টার্মিনাল নির্মিত হবে।

এটি চান্দুপাড়ায় নির্মিত হবে। মধ্যমেয়াদি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এখন পায়রা বন্দরের কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলছে। বন্দরের লোকবল নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।

বন্দর চেয়ারম্যান আরও বলেন, বর্তমান নাব্যতার চ্যানেলে ২০-২৫ হাজার টন পণ্যবাহী জার্মান শিপিং কোম্পানির জাহাজ পণ্য খালাসের কাজ চালাবে। পরে ক্যাপিট্যাল ড্রেজিংয়ের পর ৪০-৫০ হাজার টন পণ্যবাহী জাহাজ পণ্য খালাসের কাজ শুরু করবে। বর্তমানে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে চার হাজার পরিবারের পুনর্বাসন ছাড়াও তাদের কর্মদক্ষতার উন্নয়নে প্রশিক্ষণের কাজ চলমান রয়েছে। পায়রা বন্দরের অর্থায়নে উন্নয়ন সংস্থা ডরপ এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ পর্যন্ত ৬৮৬ জনকে সাতটি ট্রেডের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ প্রকল্পটিকে ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে ১৯টি কম্পোনেন্টে বিভাজন করা হয়। যেখানে দেশের জিটুজি অর্থায়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব পিপিপি ভিত্তিতে এর বাস্তবায়ন চলছে। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট সীমিত পরিসরে পায়রা বন্দরের নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ হতে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাসের মধ্য দিয়ে অপারেশনাল কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

চেয়ারম্যানের ভাষ্যমতে, এ পর্যন্ত বন্দরে ৩২টি পণ্যবাহী জাহাজ পণ্য খালাসের মধ্য দিয়ে সরকারের প্রায় ৪৭ কেটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এছাড়া বন্দর আয় করেছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।

বন্দর পরিচালনায় জলযান পাইলট ভেসেল, হেভি ডিউটি স্পিড বোট, টাগ বোট, বয়া লেইং ভেসেল এবং জরিপ বোট জাহাজ নির্মাণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ডিটেইল মাস্টারপ্ল্যান ও অন্যান্য ডকুমেন্ট প্রস্তুতির জন্য বুয়েট ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক রয়েল হাসকিং ডিএইচভিকে পরামর্শক নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Add Comment

অন্যান্য সংবাদ