পলাশনগরে পানির অবৈধ সংযোগের রমরমা ব্যবসা

Post Iamge

Advertise

নগরীর মিরপুরের পলাশনগরে পানির অবৈধ সংযোগ দিয়ে একটি চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। রমজানের শুরুতে পলাশনগরের একমাত্র পানির পাম্পটি নষ্ট হয়ে যায়। এতে পানির সংকটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিশেষ করে পলাশনগরের উঁচু এলাকায় পানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। নিচু এলাকায় পানি এলেও অবৈধ সংযোগের কারণে বৈধ সংযোগকারীরা পানি পাচ্ছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পলাশনগর প্লট কল্যাণ মালিক সমিতির সাবেক এক পিয়ন ও তার সহযোগীরা পানির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ঘণ্টা হিসেবে পানি বিক্রি করছেন। সেই সঙ্গে এক একটি অবৈধ সংযোগ ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায়ও বিক্রি করা হয়।

পলাশনগর ঘুরে দেখা যায়, নামা এলাকায় অবস্থিত পানির পাম্পটির সংস্কার কাজ চলছে।

পাম্পটি দেড় মাস আগে নষ্ট হলেও মাত্র এক সপ্তাহ আগে সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ধীরগতির সংস্কার কাজে সন্তুষ্ট নয় স্থানীয় বাসিন্দারা। এ নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আলফাজ বেপারি ছোটন বলেন, রোজার সময় আর এ গরমে কি পানি ছাড়া থাকা যায়? পাম্প নষ্ট হওয়ায় অনেক দিন পর কাজ শুরু হয়েছে।

একটানা কাজ হয় না। থেমে থেমে কাজ হয়। এভাবে চললে তো ৩-৪ মাস লাগবে পাম্প ঠিক হতে। এতদিন পানি ছাড়া কীভাবে মানুষ বাঁচবে?

পলাশনগরের নামা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লতা পাইপ দিয়ে অবৈধভাবে পানির লাইন টানা হয়েছে। এক একটি পাইপ দুইশ’ থেকে তিনশ’ গজ।

এসব পাইপ দিয়ে টাকার বিনিময়ে ঘণ্টা হিসেবে পানি দেয়া হয়। প্রতি ঘণ্টা ৫০০ টাকা দেয়া হয়। নামা এলাকার বাসিন্দা মিরাজ বলেন, আমার বাসা নিচু এলাকায়। আমার পানির সমস্যা ছিল না।

কয়েকদিন আগে আমার সংযোগটি কেটে অবৈধভাবে অন্য সংযোগে দেয়া হয়েছে। অথচ প্রতি মাসে পানির জন্য ওয়াসাকে ৮০০ টাকা দেই। পলাশনগরে ঝিল ও বস্তি এলাকায় প্রায় দু’শ অবৈধ পানির সংযোগ রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, একটি সিন্ডিকেট পানির অবৈধ সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আরও দেখা যায়, পানি না থাকায় অনেক বাড়িতে পিকআপ গাড়িতে করে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে গাড়িপ্রতি দুই হাজার টাকা দিতে হয়।

এ ব্যাপারে ওয়াসার মডস জোন-১০-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল হাবিব চৌধুরী বলেন, অবৈধ সংযোগ প্রতিনিয়ত কাটা হয়।

সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, পলাশনগরে পাম্প সংস্কার ও বোরিংয়ের কাজ চলছে। খুব দ্রুত কাজ শেষ হলে সমস্যা থাকবে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

সম্পর্কিত পোস্ট

Add Comment

অন্যান্য সংবাদ