নোট জাল প্রতিরোধ: সতর্কতার পাশাপাশি প্রয়োজন উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার

Post Iamge

Advertise

প্রতি বছরের মতো এবারও পবিত্র রমজান মাস ও ঈদকে ঘিরে নোট জাল কারবারিদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

জাল কারবারিরা বেশি মুনাফার লোভে সাধারণত ১০০০ টাকার নোট বেশি জাল করে থাকে। এর পরে রয়েছে ৫০০ ও ১০০ টাকার নোট। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ১০০০ টাকা মূল্যমানের ২ হাজার ৩৪৭টি, ৫০০ টাকা মূল্যমানের ৫৬৪টি এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের ৫৯১টি জাল নোট ধরা পড়ে।

জাল নোট ধরা পড়লেও জাল কারবারিদের তৎপরতা যে থেমে থাকেনি তার প্রমাণ চলতি বছরেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জাল নোট ধরা পড়া। গত জানুয়ারি থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ১০০০ টাকা মূল্যমানের ৬৮২টি, ৫০০ টাকা মূল্যমানের ১২৩টি এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের ১২টি জাল নোট ধরা পড়েছে।

জানা যায়, নোট জাল কারবারিদের তৎপরতা ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে সমস্যা হল, আইনের দুর্বলতার কারণে দেশে জাল নোটের বিস্তার বন্ধ হচ্ছে না। বস্তুত জাল নোট কারবারিদের দমনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। ফলে জাল নোট কারবারিরা সহজেই জামিন পেয়ে যায়। তাছাড়া প্রচলিত আইনে যার হাতে জাল নোট পাওয়া যাবে, তাকেই আইনের আওতায় আনার বিধান রয়েছে।

এ কারণে জাল নোট প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরালো হচ্ছে না। তাই নোট জাল প্রতিরোধে একটি আইন প্রণয়নে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। এর আলোকে একটি খসড়া আইন তৈরিও করেছে মন্ত্রণালয়। এটি চূড়ান্ত হলে এই অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইনটি দ্রুত চূড়ান্ত করা দরকার।

জাল নোট দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। শুধু তাই নয়, জাল নোটের বিস্তার ঘটলে এ টাকা সন্ত্রাসের কাজে ব্যবহার হতে পারে। তাই যেভাবেই হোক, নোট জালের কারবারিদের শক্ত হাতে দমন করতে হবে। ইতিপূর্বে খবর বেরিয়েছিল, এই কারবারিরা নোট জাল করতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এতদিন জাল নোট কারবারি চক্রের প্রধান বাধা ছিল টাকা ছাপানোর বিশেষ ধরনের কাগজ। সেই কাগজ না পেয়ে তারা সাধারণ কাগজ, ট্রেসিং পেপার ও আঠা প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে জাল টাকা ছাপাতো।

কিন্তু ভয়ংকর ও বিপজ্জনক খবর হল, নোট জালকারী চক্রের হাতে এখন রয়েছে টাকা তৈরির আসল কাগজ। এজন্য আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে, যারা নকল টাকা ধরার প্রযুক্তি আবিষ্কার করবেন। গোয়েন্দাদের তদন্ত করে দেখতে হবে নোট জালের কাগজ কীভাবে ও কোন পথে আসে। এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। দেশে কোথায় জাল নোট তৈরি হচ্ছে তা জানতে গোয়েন্দা জাল বিছাতে হবে। ব্রিটেনের পাউন্ড নকল হয় না।

এক্ষেত্রে তাদের বিশেষ হাই সিকিউরিটি আছে। প্রয়োজনে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমাদেরও গড়ে তুলতে হবে। নইলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি এক ভয়ংকর অরাজক অবস্থার মধ্যে পড়বে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Add Comment

অন্যান্য সংবাদ

নিউজলেটার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আপনার ইনবক্সে সেরা খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন । আমরা আপনাকে স্প্যাম করব না এবং আমরা আপনার গোপনীয়তাকে সম্মান করি।