জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে দেশ

Post Iamge

Advertise

বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-রাজশাহী রুটে বিরতিহীন আন্তঃনগর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ট্রেন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদ নিয়ে বেশকিছু কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, শ্রীলংকার মতো বাংলাদেশেও জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলা চালানোর চেষ্টা চলছে; তবে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর যথেষ্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কারণে সেসব চেষ্টা সফল হয়নি। প্রধানমন্ত্রী জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

সন্দেহ নেই, জঙ্গিবাদ এখন এক বড় বৈশ্বিক সংকট। সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও জঙ্গিবাদের ঝুঁকিতে রয়েছে অনেকদিন থেকেই। ইতিমধ্যেই দেশে হলি আর্টিজানসহ বেশকিছু জঙ্গি হামলা চালানো হয়েছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। তবে হলি আর্টিজানের ঘটনার পর দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ অনেকটাই দমানো সম্ভব হয়েছে। আশার কথা, বেশ কিছুদিন থেকেই বাংলাদেশ জঙ্গি তৎপরতা থেকে মুক্ত রয়েছে।

তবে এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, জঙ্গি তৎপরতা বর্তমান সময়ে অনেকটা নিষ্প্রভ হলেও জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় জঙ্গি ও জঙ্গি মনোভাবাপন্নরা কৌশলগত কারণেই হয়তো ব্যাকফুটে রয়েছে। এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, শ্রীলংকার সাম্প্রতিক ঘটনার পর বাংলাদেশের ঝিমিয়ে পড়া জঙ্গিরা নতুন করে উজ্জীবিত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী যে বলেছেন, বাংলাদেশে জঙ্গি হামলা চালানোর চেষ্টা হচ্ছে, সে কথাও বেশ গুরুত্ব বহন করে। প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তাকে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে দেখার অবকাশ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হল, তিনি দেশবাসীকে জঙ্গিবাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছেন। এটাই ঠিক যে, সাধারণ মানুষের ব্যাপক সচেতনতা ছাড়া জঙ্গিবাদ নির্মূল করা সম্ভব নয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা সমগ্র জনগোষ্ঠীর তুলনায় অনেক কম। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া তাদের পক্ষে দেশের প্রতিটি জঙ্গি আস্তানা অথবা তৎপরতার খোঁজ রাখা সম্ভব নয়। সুতরাং জনগণকে সদা-সতর্ক থেকে জঙ্গি ও জঙ্গি আস্তানার খোঁজ পাওয়া মাত্রই তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। এছাড়া জঙ্গিবাদের তথাকথিত আদর্শের যে অন্তঃসারশূন্যতা, তা-ও অনুধাবন করে সমাজে তার প্রচার অব্যাহত রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মসজিদে মসজিদে জুমার খুতবায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার যে আহ্বান জানিয়েছেন এবং অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সব ধর্মের শিক্ষা গুরুদের এগিয়ে আসার কথা বলেছেন, সে কথাও আমলে নিতে হবে। মোট কথা, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সমগ্র দেশবাসীকে একটা সর্বাÍক দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।

সরকার ইতিমধ্যেই সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। শ্রীলংকার ঘটনার পর কূটনৈতিক জোন ও উপাসনালয়গুলোয় নেয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। বর্তমানে জঙ্গিদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো হামলার ঘোষণা নেই অথবা জঙ্গি তৎপরতার কোনো আগাম তথ্যও জানা নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণকে ধরে নিতে হবে, যে কোনো সময়ে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটা বিচিত্র কিছু নয়।

শ্রীলংকায় গৃহযুদ্ধ অবসানের পর দেশটিতে এক ধরনের শান্তি বিরাজ করছিল, তারপরও সেখানে হঠাৎ করেই সিরিজ বোমা হামলা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের মতো শান্তির দেশেও মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশত মানুষের প্রাণ গেছে। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে জঙ্গিবাদের ব্যাপারে সদা-সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই।

সম্পর্কিত পোস্ট

Add Comment

অন্যান্য সংবাদ

নিউজলেটার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আপনার ইনবক্সে সেরা খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন । আমরা আপনাকে স্প্যাম করব না এবং আমরা আপনার গোপনীয়তাকে সম্মান করি।