আইন পর্যালোচনার উদ্যোগ ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে

Post Iamge

Advertise

সরকার বিনিয়োগ বাড়াতে ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর বৈষম্য কমাতে ১ হাজার ৩০০ আইন পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা গেলে বিনিয়োগ, আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ও বৈষম্য নিরসন করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে তাতে সন্দেহ নেই।

কারণ আইন তৈরি করা হয় মানবকল্যাণ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ সবকিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য। কিন্তু দীর্ঘদিনের পুরনো আইন ও নিয়মনীতি পরিবর্তিত পরিস্থিতির জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। সে

ক্ষেত্রে আইনের পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পর্যালোচনা সময়ের দাবির কারণেই অপরিহার্য।

জানা যায়, ৬১টি আইন ও অধ্যাদেশ বাংলা থেকে ইংরেজিতে রূপান্তরের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ১০০টি আইন অনুবাদের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বৈষম্যমূলক বিধানের কারণে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে আরও ১২০০টি আইনের পর্যালোচনা হবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনের পর্যালোচনা স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। অনেক দেশ এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে সফলতা পেয়েছে।

ফলে আমাদেরও এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া ভালো বৈ মন্দ হওয়ার কথা নয়। একটা সময় দেশের মানুষের সংখ্যা কম ছিল, আমদানি-রফতানি ছিল সীমিত ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা ও আকাক্সক্ষা ছিল কম। কিন্তু এখন বিশ্বায়নের যুগে সবকিছু বদলে গেছে, চাহিদা বেড়েছে। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে আইনের খাপ খাওয়ানো দরকার।

সরকার বিষয়টিতে ওয়াকিবহাল বলেই ১৩শ’ আইন পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে আমরা মনে করি। এখন দরকার ভালোভাবে কাজটির কীভাবে সমাধান করা যায় তা নিশ্চিত করা। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার, পক্ষ-বিপক্ষ সবার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টিকে এগিয়ে নিতে হবে।

কাস্টমস আইন, চুক্তি, বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ, শ্রম, ওয়ানস্টপ সার্ভিস, বিদেশি কর্মী নিয়োগ, আয়কর, বীমা ও অন্যান্য আইনের সংশোধন, পরিমার্জন ও পর্যালোচনা এমনিতেই সময়ের দাবি। বর্তমানে যখন আমরা পর্যায়ক্রমে উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছি, তখন দ্রুততার সঙ্গে এসব আইন পর্যালোচনার বিকল্প নেই।

যে কোনো কিছু পরিবর্তনের ক্ষেত্রেই একশ্রেণীর কাছ থেকে বাধার মুখে পড়তে হয়। আইন ও অধিকারের মতো বিষয়ে যে বাধা আরও বড় হবে তাতে সন্দেহ নেই। তবে যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও ভারতসহ যেসব দেশ আইন পর্যালোচনা করে সুফল পেয়েছে, সেসব দেশের উদাহরণ সামনে আনার পাশাপাশি সচেতনতা তৈরি করতে হবে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে।

কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা নয়, বরং সুষম আইন পর্যালোচনার মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর কল্যাণের পাশাপাশি দেশ, সমাজ ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়াই মূল উদ্দেশ্য- এই মনোভাব তৈরি করে এগিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিলে বড় ধরনের আইনি পর্যালোচনার উদ্যোগ বাধাপ্রাপ্ত না হয়ে সুষ্ঠুভাবে শেষ করা যাবে বলে আশা করা যায়।

সম্পর্কিত পোস্ট

Add Comment

অন্যান্য সংবাদ

নিউজলেটার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আপনার ইনবক্সে সেরা খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন । আমরা আপনাকে স্প্যাম করব না এবং আমরা আপনার গোপনীয়তাকে সম্মান করি।